জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, জুলাইয়ে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ রক্ত দিয়ে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। সরকার মাত্র পাঁচ মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, ধাপে ধাপে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতেই সরকার জুলাই চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট প্রতিটি অঙ্গীকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
আহমেদ আযম খান আরও বলেন, ‘যেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসুক, তাকে অবশ্যই জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা ক্ষমতায় আসিনি, দায়িত্বে এসেছি। আমরা শাসক নই, জনগণের সেবক।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর নামে আবাসিক হল, প্রবেশদ্বার এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া শহীদ আবু সাঈদের বাবা রংপুরে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে দাবি জানিয়েছেন, সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্মরণসভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। তিনি সব শহীদের হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান। পাশাপাশি আবু সাঈদের নামে একটি মডেল মসজিদ ও আবাসিক হল প্রতিষ্ঠা এবং রংপুরে শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জুলাইয়ের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান। উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাঈদের নামে গেট ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মেগা প্রকল্পে তাঁর নামে একটি আবাসিক হল নির্মাণের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে উপাচার্য শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে শোক র্যালির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলাম এবং ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেরোবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তাঁর আত্মত্যাগের পরই আন্দোলন সারা দেশে নতুন গতি লাভ করে।