হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। টানা দ্বিতীয় রাতেও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার রাতে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং ছোট নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। প্রথমবারের মতো এই হামলায় মার্কিন বাহিনী সামুদ্রিক ড্রোনও ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এই রাতভর হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এলাকায় একটি পানির স্টেশনে মার্কিন আঘাত হানলে একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং চারজন আহত হন। এছাড়া খোররামশাহর, হোভেইজেহ, আহভাজ এবং আন্দিমেশক এলাকাতেও দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলার পরই আইআরজিসি টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে পাল্টা হামলা শুরু করার ঘোষণা দেয়। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসি কুয়েতের ‘আলি আল সালেম’ মার্কিন ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস এবং ‘আহমাদ আল জাবের’ বিমানঘাঁটির একটি রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে। তবে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী বা মার্কিন সেন্টকম এখন পর্যন্ত এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
পাশাপাশি বাহরাইনের ‘শেখ ইসা’ মার্কিন বিমানঘাঁটির হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, পি-৮ পোসেইডন বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সাইরেন বাজার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, রোববার রাতের এই মার্কিন হামলা তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে, যা সাম্প্রতিক হামলাগুলোর তুলনায় বেশ দীর্ঘ। এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই চরম সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।