শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে গোসাইরহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে উপজেলার আওলালপুর ইউনিয়নের চর জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বি এম জসিম উদ্দিন রেইনকোট, মুখে মাস্ক ও চোখে সানগ্লাস পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তিনি সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একটি কুড়াল বের করে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান। এতে শাকিল আহমেদ আহত হন। এ সময় অফিসে উপস্থিত অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীকে প্রতিহত করেন এবং আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকে রেখে গোসাইরহাট থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
তবে হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বি এম জসিম উদ্দিন সুস্পষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি। একটি ভিডিওতে তাঁকে অসংলগ্ন উত্তর দিতে দেখা যায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি সকালে টাইগার খেয়েছি, আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি। এরপর কী হয়েছে, আমি জানি না।’
এ বিষয়ে আহত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, ‘অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বি এম জসিম উদ্দিনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে আমি একাধিকবার তাঁকে সতর্ক করেছি এবং জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করেছি। এরই জের ধরে তিনি পরিকল্পিতভাবে ছদ্মবেশে আমার কার্যালয়ে এসে কুড়াল দিয়ে হামলা চালিয়েছেন। সহকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে না এলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’ বর্তমানে তিনি থানায় রয়েছেন এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান শাকিল আহমেদ।
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’