দেশের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা। স্টারলিংকের সহায়তায় ‘ডাইরেক্ট টু সেল’ বা ডিটুসি নামের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরীক্ষা চালাচ্ছে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি বাংলালিংক। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমতি নিয়ে চলমান এই পরীক্ষা শেষে চলতি মাসেই বাণিজ্যিকভাবে ডেটানির্ভর সেবাটি চালুর আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ফোর-জি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির বিস্তার ঘটলেও পার্বত্য অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরের ১৫-২০ কিলোমিটার গভীরে গেলে মোবাইলে ঠিকমতো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। পাহাড়ি জনপদের মানুষ ও পর্যটকদের ফোনে কথা বলতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এসব নেটওয়ার্কহীন দুর্গম এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতেই বিটিআরসি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
ডিটুসি প্রযুক্তিতে মোবাইল টাওয়ার ছাড়াই সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্মার্টফোনে ইন্টারনেট, ভয়েস কল ও মেসেজ আদান-প্রদান করা যায়। এরই মধ্যে বাংলালিংককে এই সেবার পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দিয়েছে বিটিআরসি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ আটটি শর্তে অপারেটরটিকে সাময়িকভাবে ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান জানান, বর্তমানে বঙ্গোপসাগর ও দুর্গম পার্বত্য এলাকায় নির্দিষ্ট গ্রাহকদের ফোনে ডিটুসি সেবার পরীক্ষা চলছে। প্রাথমিকভাবে এর মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস কল ও এসএমএস আদান-প্রদান করা যাচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম শুরু হলে বিশেষ প্যাকেজের আওতায় ডেটা সার্ভিস মিলবে। নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রাহকের লোকেশন ট্র্যাক করার জন্য একটি বিশেষ অ্যাপও তৈরি করা হচ্ছে।
তাইমুর রহমান আরও বলেন, ‘ফোর-জি স্মার্টফোন হলেই গ্রাহকেরা এই সেবাটি পাবেন। গ্রাহকেরা প্যাকেজ কিনলে স্টারলিংকের এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। চলতি মাসেই আমরা এটি উদ্বোধন করতে পারব বলে আশা করছি।’
উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ গ্রাহককে সেবা প্রদান করছে।