স্পেনের কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। ডালাসের এই হারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ-অধ্যায়। ম্যাচ শেষে ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বমঞ্চে আর দেখা যাবে না তাঁকে। তবে পর্তুগালের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এখনই অবসর নিচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রোনালদোর কণ্ঠে ছিল হতাশা, তবে কোনো অনুশোচনা ছিল না। তিনি জানান, এভাবে বিদায় নেওয়াটা কষ্টের, তবে তিনি দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন এবং পরিষ্কার বিবেক নিয়েই বাড়ি ফিরছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে বাকি সিদ্ধান্তের জন্য সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে থাকব, মুহূর্তের উত্তাপে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।’
ডালাসে স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগাল দীর্ঘ সময় লড়াইয়ে টিকে ছিল। গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা বেশ কয়েকবার দলকে রক্ষা করেছেন, মাঝমাঠেও ছিল সমানে সমান লড়াই। কিন্তু যোগ করা সময়ে ফেরান তোরেসের পাস থেকে মিকেল মেরিনোর ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ১-০ গোলের জয়ে পর্তুগালের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন ভেঙে দেয় স্পেন।
২০০৬ সাল থেকে শুরু করে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে (২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রোনালদো। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তিও তাঁর। পর্তুগালের হয়ে ২০০৬ সালের সেমিফাইনালই তাঁর সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য হয়ে থাকল।
বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁতে না পারলেও তাঁর নেতৃত্বেই পর্তুগাল ২০১৬ ইউরো এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালের নেশনস লিগ জয় করেছে। নিজের অবদান নিয়ে গর্বিত রোনালদো বলেন, এর আগে পর্তুগালের বড় কোনো শিরোপা ছিল না; ২০১৬ সালের ইউরো জয় তাঁর কাছে বিশ্বকাপের মতোই বিশাল।
এই হারের মধ্য দিয়ে পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধ্যায়ও শেষ হয়েছে। বিদায়বেলায় তিনি রোনালদোর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পুরো ম্যাচে রোনালদোকে মাঠে রাখার বিষয়ে কোচের যুক্তি ছিল, গোল দরকার হলে তাঁর মতো অভিজ্ঞ কাউকে তুলে নেওয়া যায় না। বক্সের ভেতর তাঁর উপস্থিতি এবং গোলের প্রতি ক্ষুধা দলের জন্য সবসময়ই মূল্যবান।