তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের বিশেষ আমন্ত্রণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সরকারি সফরে ইস্তাম্বুল পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের বরাত দিয়ে আমার দেশ অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমের বোলাত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সঙ্গে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার।
পাকিস্তানের সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান একান্তে বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে পাকিস্তান-তুরস্ক সম্পর্কের সব গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও আলোচনা হবে।
বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে দুই নেতা বিশেষ জোর দেবেন।
ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালে শাহবাজ শরিফ একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি খাত, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়ায় তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের জন্য থাকা নানা সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবেন।
তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সরকারি কর্মকর্তাদের এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করা।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতেও এই দুই রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক মঞ্চে একে অপরকে যৌথ সমর্থন দিয়ে আসছে।