ফুটবলের আড়ালে অন্য এক গল্প: কেপ ভার্দেতে মুসলিমদের নীরব উত্থান

আপলোড সময় : ৩০-০৬-২০২৬ ০৪:১৬:৪৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৬-২০২৬ ০৪:১৬:৪৮ অপরাহ্ন

বিশ্বকাপ ফুটবলের কল্যাণে আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের নাম অনেকেরই জানা। তবে এই দ্বীপদেশটিতে এখন নীরবে বিকশিত হচ্ছে ইসলাম, যেখানে অভিবাসী মুসলিমরা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছেন।
 

২০২১ সালের সবশেষ জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, পাঁচ লাখ মানুষের এই দেশে মুসলিমদের সংখ্যা আনুমানিক পাঁচ হাজার। অর্থাৎ, মোট জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ এখন ইসলাম ধর্মাবলম্বী।
 

এসব মুসলিমের বেশিরভাগই মালি, সেনেগাল ও গিনি-বিসাউয়ের মতো পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসী। তাদের মূল বসবাস রাজধানী প্রাইয়া, বন্দরনগরী মিনদেলো এবং পর্যটন এলাকা সাল ও বোয়া ভিস্তা দ্বীপে।
 

সুন্নি মতাদর্শী এই মুসলিমরা মূলত খুচরা ব্যবসা, নির্মাণ খাত, পর্যটন, পরিবহন ও হস্তশিল্পের সঙ্গে জড়িত। পশ্চিম আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী সুফি ধারা, বিশেষ করে তিজানিয়া ও মুরিদ তরিকার প্রভাব তাদের দৈনন্দিন ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
 

দেশটিতে ইসলামের ইতিহাস মূলত সাড়ে পাঁচশ বছরের পুরোনো। ১৪৬২ সালে পর্তুগিজরা এখানে উপনিবেশ গড়ার পর আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের সূত্র ধরে এখানে মুসলিমদের প্রথম পদচিহ্ন পড়ে।
 

সেনেগাম্বিয়া ও আপার গিনি থেকে আসা ওলোফ, মানদিলকা ও ফুলানি আদিবাসীদের অনেকেই ছিলেন ইসলামি জ্ঞানে সমৃদ্ধ। কিন্তু পর্তুগিজদের ক্যাথলিক ধর্মের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের কারণে অনেককে জোরপূর্বক খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করা হয় এবং প্রকাশ্যে ইসলাম পালনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
 

দীর্ঘ এই ঔপনিবেশিক দমন-পীড়নের পরও ইসলামের শিকড় একেবারে মুছে যায়নি। স্থানীয় ক্রেওল ভাষা ও সংস্কৃতিতে আজও পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম রীতিনীতি ও ভাষার নীরব উপস্থিতি রয়েছে।
 

১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পর্তুগিজদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় কেপ ভার্দে। এরপর নতুন সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে মুসলিমরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ধর্মপালনের সুযোগ পান।
 

বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পর্যটনের বিস্তারের কারণে আশির দশক থেকে মুসলিম অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯৯০ সালে রাজধানী প্রাইয়ায় দেশের প্রথম সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া মসজিদ গড়ে ওঠে, যা তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
 

পরবর্তীতে ২০১৪ সালে অন্তত ৫০০ সদস্যের ধর্মীয় সংগঠনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার আইন পাস হয়। এর ফলে কেপ ভার্দের মুসলিম সংগঠনগুলো আইনি মর্যাদা ও কর-সুবিধা লাভ করে নিজেদের ভিত্তি আরও মজবুত করেছে।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
ইমেইল : [email protected]