উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে নীলফামারীর তিস্তা নদীতে পানি বাড়লেও বর্তমানে তা কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষগুলোর মাঝে এখনও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী তিস্তার পানি কমার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ডালিয়া পয়েন্টে (খালিশাচাপানি বাইশপুকুর) তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
পাউবো সূত্র জানায়, এর আগে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। টানা ১২ ঘণ্টা বিপৎসীমার ওপরে থাকার পর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে পানির স্তর।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংসহ উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে গজলডোবা ব্যারাজ হয়ে এই ঢল বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এর ফলে যেকোনো মুহূর্তে পানি বেড়ে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে নদীর পানি উপচে ইতোমধ্যে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার শত শত মানুষ।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় তার এলাকার ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের প্রায় এক হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তার ইউনিয়নের এক হাজার ৩৫০টি পরিবার এখন জলমগ্ন। উজান থেকে যেভাবে ঢল নামছে, তাতে সামনের দিনগুলোতে বড় বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি।