সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধের জেরে জন্মদাত্রী মায়ের মুখে লাথি মেরে দাঁত ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অমানবিক এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় নির্যাতনের শিকার ওই মায়ের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে শ্যামনগর থানা-পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। শ্যামনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ওই শিক্ষকের নাম মনিরুল ইসলাম। তিনি শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি একই ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামে।
পুলিশ জানায়, নির্যাতনের শিকার ৭২ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম।
আনোয়ারা বেগমের ছোট ছেলে আফতাবুজ্জামান জানান, একই বাড়িতে বসবাস করায় অভিযুক্ত মনিরুল ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই মায়ের ওপর নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মনিরুল তার মায়ের মুখে সজোরে লাথি মারলে একটি দাঁত ভেঙে যায়।
পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় রোববার আনোয়ারা বেগম নিজে বাদী হয়ে ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফেরদৌসি ইসলাম ঝর্ণার বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শ্যামনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে মনিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষকের এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের কথা শুনেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন।