বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার স্বপ্ন একদম কাছে এসেও ভেঙে গেল ইরানের। ইনজুরি সময়ের নাটকীয়তা আর ভিএআরের সিদ্ধান্তে কপাল পুড়েছে এশিয়ার এই দলটির। ফলে আক্ষেপ নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো তাদের।
রোববার (২৮ জুন) ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা যায়, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুবার শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গের তেতো স্বাদ নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ করতে হয়েছে ইরানকে।
‘জি’ গ্রুপে নিজেদের তিনটি ম্যাচেই ড্র করে ৩ পয়েন্ট পেয়েছিল ইরান। তবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়ার জন্য এই সমীকরণ যথেষ্ট ছিল না।
এই গ্রুপ থেকে ৫ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেলজিয়াম। সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হিসেবে পরের রাউন্ডে গেছে মিশর।
তবে ইরানের সবচেয়ে বড় আক্ষেপের জন্ম দিয়েছে নিজেদের শেষ ম্যাচটি। মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র থাকা অবস্থায় যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে বল জালে পাঠিয়েছিল তারা।
মাঠে উল্লাসের জোয়ার উঠলেও ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) প্রযুক্তি গোলটি অফসাইড হিসেবে বাতিল করে। গোলটি বৈধ হলে সেদিনই নকআউটের টিকিট নিশ্চিত হতো ইরানের।
সেই জয়ে তিন পয়েন্ট না পাওয়ায় সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউটে ওঠার জন্য ‘জে’ গ্রুপের আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় তাদের। সমীকরণ ছিল, ড্র ছাড়া ওই ম্যাচের যে কোনো ফল হলেই পরের রাউন্ডে যাবে ইরান।
নির্ধারিত সময় শেষে ওই ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ২-২। এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আলজেরিয়া গোল করলে আবারও আশায় বুক বাঁধে ইরান শিবির।
কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিট পেরোতেই অস্ট্রিয়া সমতাসূচক গোল করে বসে।
ম্যাচটি ৩-৩ গোলের ড্রয়ে শেষ হওয়ায় অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া দুই দলই নকআউটে উঠে যায়। আর রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ইরান।
দুর্দান্ত খেলেও কেবল ভাগ্যের ফেরে এমন হৃদয়বিদারক বিদায় নিতে হলো দলটিকে।