ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের বিশ্বকাপ মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্পোর্টস ডেস্কের এক প্রতিবেদনে আর্জেন্টাইন মহাতারকার এই ঐতিহাসিক অর্জনের তথ্য জানানো হয়েছে।
এক দশক আগে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে হেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। তবে সেই হতাশা পেছনে ফেলে জাতীয় দলে ফেরার পর থেকেই তিনি উপহার দিচ্ছেন একের পর এক সোনালি অধ্যায়।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে দলের দুটি গোলই আসে মেসির পা থেকে। এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টিতে।
এর মাধ্যমে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬ গোল) পেছনে ফেলেছেন। এমনকি ১৭ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের নারী কিংবদন্তি মার্তাকেও ছাড়িয়ে গেছেন এই ফরোয়ার্ড।
ডালাসের এই ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মেসির জন্য সুখকর ছিল না। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি।
তবে ৩৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোল করে ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসান মেসি। এরপর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আরও একটি গোল করে এককভাবে ইতিহাসের চূড়ায় উঠে যান তিনি।
চলতি আসরটি মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তার ১৮ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ৩৫ বছর বয়স পার হওয়ার পর। এবারের আসরে আর্জেন্টিনার করা পাঁচটি গোলের সবকটিই করেছেন তিনি।
অস্ট্রিয়ার জালে বল জড়ানোর মাধ্যমে আরেকটি দারুণ কীর্তিও গড়েছেন এই মহাতারকা। ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর (১৯৭০) পর মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড এখন তার ঝুলিতে।
মেসির এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সাবেক ওয়েলস অধিনায়ক অ্যাশলি উইলিয়ামস। বিবিসির এক বিশ্লেষণে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা কি ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়কেই দেখছি?”
একইভাবে সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার ড্যানি মারফিও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মেসির ফুটবল মেধা অন্য যেকোনো পর্যায়ের চেয়ে আলাদা এবং সম্ভবত তিনিই সর্বকালের সেরা।
সব রেকর্ডের ভিড়ে এই রাতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি নেওয়ার (৭টি) পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করা (৩টি) খেলোয়াড়ও এখন তিনি।
তবুও সব হতাশা ছাপিয়ে রাতটি নিজের করে নিয়েছেন এই জাদুকর। একসময়ের অবসর নেওয়া সেই ফুটবলারই আজ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের মালিক, যার জাদুতে ভর করে টানা আরও একটি নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।