সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো জুলাই মাস থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে তা ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির এক বৈঠকে প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন বেতন কাঠামোর কৌশল চূড়ান্ত করতে এদিন সচিব কমিটি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করে। তবে সেদিন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় আগামী ২৪ জুন কমিটির আরেকটি বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন ধাপে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন বাহিনীর কর্মীরা নতুন বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বেসিকের বাকি ৫০ শতাংশ প্রদান করা হবে। এরপর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য সব ভাতা ও সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।
আগামী ১ জুলাই থেকে এই কাঠামো কার্যকরের কথা থাকলেও, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে চাকরিজীবীদের হাতে বাড়তি টাকা পৌঁছাতে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এর আগে গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে অনলাইনে ২ লাখ ৩৬ হাজার মানুষের মতামতও আমলে নেওয়া হয়।
নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত ভাতা ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়ার হার বেশি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের প্রস্তাবনায় ১ম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে।