যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এই সমঝোতার ফলে বিশ্বজুড়ে চলা দীর্ঘদিনের জ্বালানি সরবরাহ সংকট নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তেলের দাম কমার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে চলমান যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিন বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক শূন্য ২ ডলার কমে ৭৮ দশমিক ৫৩ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, মার্কিন তেলের মানদণ্ড ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৪৮ ডলার কমে ৭৫ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
রয়টার্স জানায়, গত ২ মার্চ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এবারই সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছাল। পাশাপাশি ডব্লিউটিআইয়ের দামও গত ৪ মার্চের পর সবচেয়ে নিচে নেমেছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্রোকারেজ সংস্থা আইজি’র বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর জানান, এই চুক্তির কারণে জ্বালানির বাজারে গভীর প্রভাব পড়েছে। প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি তেলের সরবরাহ বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
উভয় দেশের মধ্যে ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে টোল ছাড়াই যাতায়াতের অনুমতি দেবে ইরান।
আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক ও পূর্ণ সক্ষমতায় নৌযান চলাচলের বিষয়টিও চুক্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক এই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে, চুক্তিটি পুরোপুরি সফল হলে আগামী বছর তেলের চাহিদার চেয়ে সরবরাহ দৈনিক ৫০ দশমিক ৫ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে ২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ আধিক্য দেখা দিতে পারে।
অপরদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি বছরের শেষ দিকে সুদের হার বাড়ানোর কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।