ইরানের সঙ্গে চুক্তি: ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ ইসরায়েলি মিডিয়া

আপলোড সময় : ১৮-০৬-২০২৬ ০৯:৩১:৪৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৬-২০২৬ ০৯:৩১:৪৬ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েলের কট্টরপন্থি সংবাদমাধ্যমগুলো। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ‘চ্যানেল ১৪’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের তীব্র আক্রমণ করে সম্প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। চুক্তিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ট্রাম্প শিবিরের ওপর এমন ক্ষোভ উগরে দেওয়া হচ্ছে।
 

চুক্তিটির কারণে ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের মধ্যেও চরম উদ্বেগ কাজ করছে। তবে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হতে পারেন, এমন আশঙ্কায় নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সরকার সরাসরি কোনো সমালোচনা থেকে বিরত রয়েছে।
 

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করে সরকার মূলত তাদের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই চ্যানেলটির মাধ্যমেই নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
 

সম্প্রতি নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্পের করা কিছু রুক্ষ মন্তব্যও এই উত্তেজনার পারদ বাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলেছেন, ‘আমি তাকে যা করতে বলব, সে তা-ই করবে।’ এমনকি একটি ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলেও সম্বোধন করেন তিনি।
 

এসব ঘটনার জেরে চ্যানেল ১৪-এর জনপ্রিয় টকশো ‘দ্য প্যাট্রিয়টস’-এর সঞ্চালক ইয়িনন মাগাল সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ট্রাম্প একজন লুজার বা পরাজিত ব্যক্তি।’ অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাতে এই মাগালই ‘ট্রাম্প ২০২৪’ লেখা টুপি পরে লাইভ অনুষ্ঠান করেছিলেন।
 

মাগাল শুধু ট্রাম্পকেই নয়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে হিব্রু ভাষায় ‘নর্দমার কীট’ আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও চুক্তির আলোচক স্টিভ উইটকফকে তাচ্ছিল্য করে তিনি ‘ইহুদি বালক’ বলেও মন্তব্য করেন। তার এমন বর্ণবাদী মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলের অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ (এডিএল)।
 

চ্যানেলটির আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়াকভ বারদুগো ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে ‘আধুনিক চেম্বারলিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। হিটলারের প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলিনের তোষণ নীতির সঙ্গে ট্রাম্পের বর্তমান পদক্ষেপের তুলনা করেছেন তিনি।
 

উইটকফ ও কুশনারের দলকে ‘আবাসন ব্যবসায়ী’ বলে উপহাস করার পাশাপাশি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘কূটনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ বলে মন্তব্য করেন বারদুগো।
 

এদিকে, চুক্তির সমালোচনা করে চ্যানেলটির তারকা শিমন রিকলিন লিখেছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আসলে ইরানের আয়াতুল্লাহদের কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ। প্যানেলিস্ট যোতাম জিমরির মতে, ‘ট্রাম্প আমাদের সবচেয়ে বেশি দিয়েছেন, আবার তিনিই সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন।’
 

রাজনৈতিক ভাষ্যকার যারা জেরেড তার এক বক্তব্যে বলেন, ‘ইসরায়েল ট্রাম্পের আগেও ছিল এবং ট্রাম্পের পরেও থাকবে।’
 

চ্যানেলটির এমন আগ্রাসী অবস্থান সম্পর্কে মুখপাত্র ওমের মেইরি দাবি করেছেন, তাদের চ্যানেল কোনো রাজনীতিকের নির্দেশে চলে না। সেখানে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং চুক্তির পর স্বয়ং নেতানিয়াহুও তাদের চ্যানেলে সমালোচিত হয়েছেন।
 

তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তির ফলে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক ব্যর্থতার দায় থেকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বাঁচাতেই ট্রাম্পের ওপর এই আক্রমণের কৌশল হাতে নেওয়া হয়েছে।
 

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই চুক্তি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু বেশ কৌশলী উত্তর দেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার অধিকাংশ বিষয়েই মিল রয়েছে; তবে সাধারণ পরিবারগুলোর মতো কখনো কখনো তাদের মধ্যেও কিছুটা মতানৈক্য হতে পারে।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
ইমেইল : [email protected]