ক্রিকেটার নাঈমকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা: ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা হয়নি

আপলোড সময় : ১৮-০৬-২০২৬ ০৮:৪৮:৫২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৬-২০২৬ ০৮:৪৮:৫২ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও অপহরণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা রেকর্ড করা হয়নি।
 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
 

গত শনিবার নাঈমের ভাই সাব্বির আলম নগরের খুলশী থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, কনস্টেবল রাসেল চৌধুরী এবং পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেন সরকারকে অভিযুক্ত করা হয়।
 

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা বা গ্রেপ্তারের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কেবল এসআই শফিকুল ও কনস্টেবল রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
 

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত পুলিশ সোর্স সোহেলকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দামপাড়া পুলিশ লাইনসে হামলার একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 

জানা যায়, গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে তাকে বহনকারী গাড়িটি থামানো হয়।
 

পরিবারের অভিযোগ, সোনা চোরাচালানের ভিত্তিহীন সন্দেহে ডিবি পরিচয়ে তাকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় নিজের পরিচয় দিলেও এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল তাকে প্রকাশ্যে মারধর করেন এবং জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যান।
 

থানায় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ হেনস্তা করার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে ওই রাতেই ছাড়া পান এই জাতীয় ক্রিকেটার।
 

অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন তৎকালীন খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
 

এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার ঘটনাটিকে পুলিশের ‘চরম অপেশাদার আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে উপপুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 

এদিকে, গত মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে নাঈম জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
 

গুরুতর এই ফৌজদারি অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষ ও আইনি মহলেও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
ইমেইল : [email protected]