আলিবাবার বিনিয়োগ বন্ধের শঙ্কায় দারাজ

আপলোড সময় : ১৫-০৬-২০২৬ ০৮:৪৭:১৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৬-২০২৬ ০৮:৪৭:১৯ অপরাহ্ন

চীনের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা তাদের বিনিয়োগ নীতিতে পরিবর্তন আনায় চরম সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশ। বিনিয়োগ বন্ধের কারণে কর্মী ছাঁটাই ও আর্থিক সংকটে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে।
 

সোমবার (১৫ জুন) ই-কমার্স বাজার-সংশ্লিষ্ট এবং দারাজের একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মীর বরাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
 

জানা গেছে, ২০১৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের দারাজ গ্রুপের মালিকানা কিনে নেয় জ্যাক মার আলিবাবা। এ পর্যন্ত দারাজ বাংলাদেশে তারা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
 

তবে বর্তমানে খুচরা ই-কমার্স ব্যবসা থেকে সরে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বিটুবি ব্যবসায় বেশি নজর দিচ্ছে আলিবাবা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দারাজের ওপর, ফলে বাংলাদেশে তারা নতুন করে আর বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়।
 

দারাজের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, আলিবাবার প্রধান কার্যালয় থেকে আগামী প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মধ্যে দারাজ বাংলাদেশকে আয়ে-ব্যয়ে সমতা (ব্রেক-ইভেন) আনার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটিকে আর কোনো ধরনের ভর্তুকি দেওয়া হবে না।
 

এমন কঠিন নির্দেশনার পর চরম ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে দারাজ। দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে এরই মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে তারা।
 

পাশাপাশি শুরু হয়েছে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই। ঈদুল আজহার আগেই প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ৪০ শতাংশ কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
 

শুধু ছাঁটাই নয়, বর্তমানে কর্মরতদের মধ্যেও বেতন বকেয়া রাখার ঘটনা ঘটছে। এমনকি চাকরিচ্যুত কর্মীদের ঈদের বোনাস, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য আইনি পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
 

অফিসের খরচ কমাতেও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদ। বনানীর প্রধান কার্যালয়ের চারটি ফ্লোরের মধ্যে দুটি ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি তেজগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সর্টিং হাব ও কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
 

শুধু কর্মীরাই নন, দারাজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা মার্চেন্টদের বড় একটি অংশের পেমেন্টও আটকে আছে। বেতন-ভাতা না পেয়ে ডেলিভারি বিভাগের একাংশ সম্প্রতি কর্মবিরতি পালন করায় পণ্য সরবরাহেও দেখা দিয়েছে চরম অচলাবস্থা।
 

সূত্রমতে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজেদের আয়ে চলতে ব্যর্থ হলে দারাজ বাংলাদেশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে সরাসরি বন্ধ না করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজেদের সম্পদ লিজ দেওয়া বা একীভূত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
 

এসব বিষয়ে জানতে দারাজ বাংলাদেশের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি দেশের বাইরে থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
 

তবে গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় আলিবাবার বিনিয়োগ বন্ধের এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে দারাজ কর্তৃপক্ষ।

 

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
ইমেইল : [email protected]