পতাকার রঙের সঙ্গে জাতীয় দলের জার্সির মিল থাকাটাই ক্রীড়া বিশ্বের সাধারণ নিয়ম। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে। দেশটির জাতীয় পতাকায় ছয়টি রং থাকলেও জার্সিতে কেবল সবুজ ও হলুদ (বা সোনালি) রঙেরই আধিপত্য চোখে পড়ে।
শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত বিভিন্ন ক্রীড়া ইতিহাস ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সির এই ভিন্ন রঙের পেছনের অজানা ইতিহাস জানা যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকায় সবুজ ও হলুদের পাশাপাশি লাল, কালো, নীল এবং সাদা রং রয়েছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের জার্সিতে কেন পতাকার সব রং থাকে না, তার কোনো আনুষ্ঠানিক বা সরকারি ব্যাখ্যা নেই।
তবে বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়া মহলে একটি বেশ জনপ্রিয় তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে। যার সঙ্গে দেশটির ক্রীড়া ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে আছে।
১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম পা রাখে দক্ষিণ আফ্রিকা। তখন দেশটির পুরো ভূখণ্ড নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত ছিল।
প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯০৩ সালে একটি ব্রিটিশ দলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার রাগবি দল। সেই ম্যাচেই প্রথম এই রঙের ব্যবহার শুরু হয়।
জানা যায়, সেদিনের ওই ম্যাচে আফ্রিকার খেলোয়াড়রা ‘ওল্ড ডায়োসেসানস’ নামের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া একটি ক্লাবের জার্সি পরে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই জার্সিটি ছিল মূলত সবুজ রঙের এবং তাতে সোনালি বা হলুদ রঙের কারুকাজ করা ছিল।
এরপর থেকেই মূলত এই সবুজ আর সোনালি রং দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়াঙ্গনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে অলিম্পিক গেমসসহ সব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেই এই রঙের পোশাকে হাজির হতে থাকেন প্রোটিয়া অ্যাথলিটরা।
১৯১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা একীভূত হয় এবং ১৯৬১ সালে প্রজাতন্ত্রে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রভাব থেকে চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা লাভ করে। তবে স্বাধীনতার পরও দেশটির পতাকায় দৃশ্যমান বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
১৯২৮ সাল থেকে ব্যবহৃত পুরোনো পতাকাই তখন বহাল ছিল। ওই পতাকায় কমলা, সাদা ও নীল রঙের তিনটি বড় ডোরার পাশাপাশি সাদা অংশের ঠিক মাঝখানে নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যের পতাকাও একসঙ্গে আঁকা ছিল।