দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে সাত ধরনের প্রসাধন সামগ্রীর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছে সরকার। এর ফলে বাজারে লিপস্টিক, ত্বকের ক্রিম, লোশন ও ফেসওয়াশসহ বেশ কিছু সৌন্দর্যচর্চার পণ্যের দাম কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার প্রসাধনী পণ্যের ওপর শুল্ক-করের চাপ বাড়িয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এসব পণ্যে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্কহার অপরিবর্তিত রাখা হলেও শুধুমাত্র ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কমানো হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত দেশীয় স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস উৎপাদনকারীদের কাঁচামাল আমদানি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, লিপস্টিকের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কেজিপ্রতি ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার করা হয়েছে। এতে কেজিতে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত শুল্ক-কর কমতে পারে।
ত্বকের ক্রিমের ক্ষেত্রে শুল্কায়ন মূল্য ২০ ডলার থেকে ১৪ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে প্রতি কেজিতে কর সাশ্রয় হবে প্রায় ১ হাজার ২২৬ টাকা।
এ ছাড়া ময়েশ্চার লোশন ও চার ধরনের ফেসওয়াশের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ১০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পণ্যগুলোর কেজিতে শুল্ক কমবে প্রায় ৬১৩ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, শুল্ক কমানোর এই সুবিধার কারণে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় কমতে পারে। তবে আমদানি ব্যয় কমার এই সুফল শেষ পর্যন্ত ভোক্তারা কতটা পাবেন, তা নির্ভর করছে ব্যবসায়ীদের মূল্য সমন্বয়ের ওপর।
তবে রূপচর্চার সব পণ্যে ছাড় মেলেনি। ভ্রু সাজানোর সামগ্রী এবং হাত-পায়ের সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত কয়েকটি পণ্যে আগের শুল্কহারই বহাল রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, লিপ লাইনার, লিপ গ্লস ও লিপ জেলের মতো কিছু পণ্যের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কেজিপ্রতি ২০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ ডলার করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
সাধারণত বাজেটের শুল্ক-করসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। সে অনুযায়ী নতুন এই শুল্ক কাঠামো বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হচ্ছে বলে জানা গেছে।