যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। গ্যালারিতে অস্বীকৃত কোনো পতাকা প্রদর্শন বা দেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচ বয়কট করে মাঠ ছাড়ার হুমকি দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক বিবৃতিতে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি ফিফাকে দেওয়া এই সতর্কবার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলেও। চরম নিরাপত্তা শঙ্কায় ইরান দল এখন মেক্সিকোতে অবস্থান করছে, তারা শুধু ম্যাচ খেলার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।
নিজেদের খেলা শেষ হলে দলটি আবারও মেক্সিকোতে ফিরে যাচ্ছে। এছাড়া ভিসা জটিলতার কারণে ইরানের অসংখ্য সমর্থক এবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরাসরি খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি জানান, স্টেডিয়ামে ইরানের বিরুদ্ধে স্লোগান বা অস্বীকৃত পতাকা আনা হলে দলের কোচ সঙ্গে সঙ্গে খেলা বন্ধের আবেদন করবেন। ফিফাকেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে ইরান। এই লড়াইটিকে নিজেদের ‘গর্বের ম্যাচ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তারা।
আয়োজক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মিশর ম্যাচে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটার বিষয়ে ইরানকে এরই মধ্যে আশ্বস্ত করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম মাঠে নামবে দলটি, এরপর তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে বেলজিয়াম।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে গ্যালারিতে প্রাক-বিপ্লবী পতাকা বহনে নিষেধাজ্ঞার জেরে ফিফার বিরুদ্ধে লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে আনুষ্ঠানিক একটি মামলা করেছে ‘ইনস্টিটিউট ফর ভয়েসেস অব লিবার্টি’ নামের একটি সংগঠন। এই সিদ্ধান্তকে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে দাবি করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সংগঠনটি।
এর আগে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষা ও ভেন্যুগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার শর্ত দিয়েছিল ইরান। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের পর এসব দাবি আরও জোরালো করে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।