জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধার মুখে শূন্যরেখায় আটকে থাকা সেই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর তাকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই বৃদ্ধকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে থানা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ওই বৃদ্ধের নাম ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। তার বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁন্দলাই গ্রামে।
বিএসএফের কথিত পুশইনের অপচেষ্টায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের কাছের নো-ম্যানস ল্যান্ডে চরম অসহায় অবস্থায় আটকে ছিলেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনাকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিজিবি সদস্যরা তাকে শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শূন্যরেখায় আটকে থাকা ওই বৃদ্ধের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও দেখেই পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
ষষ্ঠী চন্দ্রের ছোট ভাই ভবানি বর্মন জানান, গত দুই মাস ধরে ভাইয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ভিডিওতে দেখে তাকে শনাক্ত করার পর ফিরে পাওয়ায় পরিবারের সবাই অত্যন্ত আনন্দিত।
উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধের ভাগনে স্বপ্ননীল জানান, তার খালু মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। মাঝেমধ্যেই কাউকে না জানিয়ে তিনি এভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন তারা।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর জামালপুর ৩৫ বিজিবির ধানুয়া কামালপুর কোম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেনের উপস্থিতিতে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে এরই মধ্যে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।