কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ছুরিকাঘাতে রাফসান হোসেন হৃদয় নামে এক সিএনজি অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিরা তাকে নির্মমভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন এ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত রাফসান হোসেন হৃদয় উপজেলার শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছেলে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ঠিক ২০ বছর আগে তার বাবাও একইভাবে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত আটটার দিকে ধোড়করা বাজারে দুটি মোটরসাইকেলের সামান্য ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে এক পক্ষ ফোন করে আরও কয়েকজনকে বাজারে ডেকে আনে।
অজ্ঞাতনামা ওই যুবকরা বাজারে এসেই শাকতলা গ্রামের কয়েকজনকে পেয়ে মারধর শুরু করে। এ সময় একটি গ্যারেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হৃদয়কে রাজিব নামে এক যুবক বুকে গভীরভাবে ছুরিকাঘাত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আকিব মাহমুদ মাহি জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের বুকের ডান দিকে গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এদিকে নিহতের ভাই ফারুক হোসেন জানান, রোজগার কম হওয়ায় ঘটনার দিন সন্ধ্যায় চা খাওয়ার জন্য তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বের হয়েছিল হৃদয়। পরে তিনি জানতে পারেন, মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে খুন করেছে।
তবে শুধু মোটরসাইকেলের বিরোধ নয়, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় হৃদয়কে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের অনেকের।
নিহতের স্বজনরা জানান, ২০০৬ সালে হৃদয়ের বাবা হেদায়েত উল্লাহকেও ছুরিকাঘাত ও ড্রিল মেশিন দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। দীর্ঘ দুই দশক পর বাবার পরিণতিই বরণ করতে হলো ছেলেকে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ঠিক কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। অভিযুক্তরা কিশোর গ্যাং বা মাদকের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।