নাটোরের বড়াইগ্রামে কিশোরদের প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে উপজেলার শিবপুর বাজার ও সংলগ্ন নাটোর-পাবনা মহাসড়ক এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত ২৯ মে গোপালপুর মৃধাপাড়া গ্রামের আবিরের সঙ্গে শিবপুর গ্রামের কয়েকজন কিশোরের প্রেমসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এর জের ধরেই গত শুক্রবার আবির ও তার স্বজনরা শিবপুর গ্রামের সজিবকে মারধর করেন।
এ সময় গড়মাটি গ্রামের ব্যবসায়ী আবু হানিফ বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে গড়মাটি কলোনির লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবপুর বাজারে গেলে তিন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়, যাতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
পরবর্তীতে রোববার সকালে গোপালপুর, শিবপুর ও পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে শিবপুর বাজারে জড়ো হন। এ সময় তারা গড়মাটি গ্রামের ভ্যানচালক নিশাত আহমেদকে পিটিয়ে আহত করে আটকে রাখেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গড়মাটি কলোনির লোকজনও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় আটকে রাখা ভ্যানচালক নিশাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে সত্তরোর্ধ্ব ওয়াজ প্রামাণিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত আরও অন্তত ১০ জনকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।