নাটোরে একটি দলছুট বানরের অবিরাম তাণ্ডবে চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বানরের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে এবং স্বাভাবিক জীবন ফেরাতে এবার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
রোববার (৭ জুন) জেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র ও স্থানীয়দের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এলাকাবাসীর পক্ষে মিলন আখন্দ নামের এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই আবেদনটি জমা দেন।
লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে কোত্থেকে একটি বানর এসে নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার এলাকায় আস্তানা গাড়ে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহল্লার অলিগলিতে এটি অবাধে ঘুরে বেড়ায়।
শুধু ঘুরাঘুরিই নয়, সুযোগ পেলেই বাসাবাড়ির রান্নাঘর, খাবার টেবিল ও দোকানপাট থেকে খাবার ছিনিয়ে নেয় বানরটি। এমনকি সাধারণ মানুষের ওপরও অতর্কিত হামলা চালাচ্ছে এটি।
বানরের এমন উৎপাতের কারণে পুরো এলাকায় গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে অনেকেই দিনের বেলাতেও বাধ্য হয়ে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন মাসে লালবাজারসহ আশপাশের এলাকায় এই বানরের হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন সরকারি হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাও নিয়েছেন।
লালবাজারের বাসিন্দা কোহেলি রানী তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘প্রায় দেড় মাস আগে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ বানরটি এসে আমার হাতে কামড়ে দেয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আমাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।’
বঙ্গজল এলাকার আরেক বাসিন্দা শাহিন ইসলাম বলেন, ‘বাজারে যাওয়ার পথে মোড়ের মাথায় বানরটি আমার ওপর লাফিয়ে পড়ে এবং বাম হাতে কামড়ে দেয়। পরে বাধ্য হয়ে আমাকেও জলাতঙ্কের টিকা নিতে হয়েছে।’
নাটোর সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন শাখার নার্স পারভিন আক্তার জানান, গত তিন মাসে বানরের কামড় খেয়ে অন্তত ১৫ জন ওই এলাকা থেকে হাসপাতালে এসে টিকা গ্রহণ করেছেন।
রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, বানরকে কোনোভাবেই খাবার দেওয়া বা বিরক্ত করা ঠিক নয়। খাবার না পেলে বানর এমনিতেই এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
তিনি আরও জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও উঁচু ভবনের কারণে দিনভর চেষ্টা চালিয়েও এর আগে বানরটিকে ধরা সম্ভব হয়নি। পরে আর এর কোনো খোঁজও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল হায়াত জানান, পৌর এলাকার বাসিন্দাদের একটি লিখিত আবেদন তারা হাতে পেয়েছেন। দ্রুত বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।