১০ টন ওজনের বিশাল লাগেজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ব্রাজিল জাতীয় দল। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের সমান অত্যাধুনিক সব চিকিৎসা সরঞ্জাম।
বুধবার (৩ জুন) ব্রাজিলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবো ডটকমের এক প্রতিবেদনে সেলেসাওদের এই বিশাল বহর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে যে পরিমাণ লাগেজ নিয়ে ব্রাজিল দল গিয়েছিল, এবার তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সরঞ্জাম নিয়ে গেছে তারা। ফুটবলারদের স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের কথা মাথায় রেখেই মূলত এই বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে ম্যানেজমেন্ট।
এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি আলাদা শহর নিউজার্সি, ফিলাডেলফিয়া ও মায়ামিতে খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সূচি অনুযায়ী তিন ভেন্যুতেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে এসব সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হবে।
জানা গেছে, এবারের বিশ্বকাপে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্ট মিলিয়ে ব্রাজিল দলে মোট ৯১ সদস্যের বিশাল বহর রয়েছে। এর সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মী ও মেডিকেল বিশেষজ্ঞ যুক্ত করলে এই সংখ্যা প্রায় একশ জনের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ায়।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৫ ও ৬ জুন নিউজার্সিতে অবস্থান করবে ব্রাজিল দল। এরপর ক্লিভল্যান্ডে গিয়ে ৬ জুন মিসরের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ আগামী ১৩ জুন, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী মরক্কো। এরপর ১৯ জুন হাইতি এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেলেসাওরা।
এদিকে বিপুল পরিমাণ এই লাগেজ প্রসঙ্গে দলের ফিজিওলজিস্ট গুইলহের্মে পাসোস জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেনিং সেন্টার বা হোটেলের অবকাঠামো ভালো হলেও সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। তাই দলের জন্য নির্ধারিত প্রতিটি হোটেলেই তারা নিজস্ব চিকিৎসা বিভাগ তৈরি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, দলের সঙ্গে সব ধরনের ফিজিওথেরাপি সরঞ্জাম, লেজার, আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন এবং শকওয়েভ থেরাপির জিনিসপত্র আনা হয়েছে। পুরো ব্যবস্থাটি একটি অত্যাধুনিক ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্সের মতো কাজ করবে বলে জানান তিনি।