তেহরানকে নতুন চুক্তিতে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে ইরানের বৃহত্তম নোবিটেক্সসহ চারটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
মঙ্গলবার (২ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন থেকে ওয়াশিংটনের এই নতুন পদক্ষেপের কথা জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় পড়া অন্য তিনটি ইরানি ডিজিটাল অ্যাসেট এক্সচেঞ্জ হলো— ওয়ালেক্স, বিটপিন এবং রামজিনেক্স।
অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৫ সালে ইরানের মোট ক্রিপ্টো লেনদেনের প্রায় অর্ধেকই সম্পন্ন হয়েছে নোবিটেক্সের মাধ্যমে। এই বিশাল সম্পদের সঙ্গে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের’ অভিযানের অধীনেই এই আর্থিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
একই সুর মিলিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
এদিকে এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও হামলা-পাল্টা হামলা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এতে তেহরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার মার্কিন প্রচেষ্টা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি ট্যাংকারকে অচল করতে যুক্তরাষ্ট্র হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। পরবর্তীতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থাপনায়ও হামলা চালায়।
এর পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের বিভিন্ন অবস্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের আইআরজিসি।