পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে একটি বাসায় জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে ২০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আটককৃতদের দেশ থেকে চিরতরে বের করে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির জিলিব আল-শুয়েখ এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে ওই এলাকায় একটি চক্র জুয়ার বড় আসর বসিয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে কড়া গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি সদস্যরা ওই বাসায় আকস্মিক হানা দিয়ে ২০ জনকে হাতেনাতে আটক করেন।
অভিযানকালে ওই জুয়ার আসর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং জুয়া খেলার বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে আটককৃতদের কুয়েতের প্রশাসনিক বহিষ্কার বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের আঙুলের ছাপ ও বায়োমেট্রিক তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যেন তারা কোনোদিন আর কুয়েতে ফিরতে না পারেন।
কুয়েত সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের কারণে অপরাধীরা শুধু কুয়েতেই নয়, বরং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান ও বাহরাইনসহ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত কোনো দেশেই আর নতুন করে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কুয়েত সরকার যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
গ্রেপ্তার হওয়া এই ২০ জন প্রবাসী ঠিক কোন দেশের নাগরিক, সে বিষয়ে কুয়েত প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। তবে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাদের সবাইকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।