সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানির পাশাপাশি আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
বুধবার (২৭ মে) সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে ঈদ উদযাপনের এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ফজরের নামাজের পর থেকেই পবিত্র ‘আল্লাহু আকবার’ তাকবির ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো দুবাই নগরী।
সূর্যোদয়ের আগেই আমিরাতের মসজিদগুলো মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
এর আগে দেশটির ‘জেনারেল অথরিটি অব দ্য ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড এন্ডোমেন্ট’ আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন প্রদেশে ঈদের নামাজের সময়সূচি ঘোষণা করেছিল।
ঘোষিত ওই সময়সূচি অনুযায়ী, রাজধানী আবুধাবিতে সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে এবং শারজাহতে ৫টা ৪৩ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া আজমানে ৫টা ৩৯ মিনিট, ফুজাইরাহতে ৫টা ৪১ মিনিট, উম্মে আল কুইনে ৫টা ৪৩ মিনিট, রাস আল খাইমাতে ৫টা ৪০ মিনিট এবং আল-আইনে ৫টা ৪৫ মিনিটে ঈদের নামাজ পড়েন মুসল্লিরা।
ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দেওয়ার যে অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, মূলত সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বে স্রষ্টার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশে পশু কোরবানির এই পবিত্র রেওয়াজ যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।