যুদ্ধ ও ধ্বংসস্তূপের মাঝেই অধিকৃত জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনিরা। অন্যদিকে, ইসরায়েলি হামলার আতঙ্কে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত গ্রামগুলোতে লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষের ঈদ কাটছে চরম শঙ্কা আর অনিশ্চয়তায়।
বুধবার (২৭ মে) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে এসব খবর জানা গেছে।
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদের প্রথম দিনে ঢল নামে হাজারো মুসল্লির। নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিকে স্মরণ করে সেখানে পশু কোরবানি ও উৎসব পালন করেন তারা।
তবে এবারের ঈদ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজায় গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৮৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত দুই হাজার ৬৪৫ জন।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন ৭২ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ লেবাননেও। একসময় সেখানে ঈদ মানেই ছিল পারিবারিক মিলনমেলা, অথচ এখন হাশবাইয়া জেলার আরকৌব অঞ্চলে কেবলই বাস্তুচ্যুতি আর স্বজন হারানোর হাহাকার।
লেবাননের শেবা, কফারহামাম ও মারজ আল-জুউর গ্রামের স্কুলগুলো এখন বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নিরাপত্তা শঙ্কায় উৎসবের এই দিনেও নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না বহু মানুষ।
মারজ আল-জুউরের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা নাসরিন আবদুল আল জানান, তারা আইন আরব গ্রাম থেকে এ পর্যন্ত তিনবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বারবার ঘরছাড়া হওয়ায় শিশুদের ওপর গভীর মানসিক প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে কফারহামাম গ্রামের ৬০ বছর বয়সী উম নাজিব ফারেস অবিরাম গোলাবর্ষণের মাঝেও নিজের বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এখনকার ঈদ কেবলই প্রিয়জনদের অনুপস্থিতির এক বেদনার উৎসবে পরিণত হয়েছে।
কফারহামামের মেয়র মুআদ রাহাল জানান, চরম ঝুঁকির মধ্যেও গ্রামে প্রায় ১১০টি পরিবার রয়ে গেছে। তবে সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে এখন এক অভূতপূর্ব সামাজিক শূন্যতা বিরাজ করছে।
এত শঙ্কার মাঝেও শেবা গ্রামের ৮৩ বছর বয়সী রাসমিয়া জঘবি ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রার্থনা, দ্রুতই যেন সব পরিবার নিজেদের শেকড়ে ফিরতে পারে।
লেবানন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে দেশটিতে প্রায় তিন হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১৬ লাখের বেশি মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১৭ এপ্রিল লেবাননে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সেই চুক্তি তোয়াক্কা না করে নিয়মিত হামলা চালিয়েই যাচ্ছে।