ঈদের টানা ছুটির আগে চট্টগ্রামের বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলোতে (আইসিডি) তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। ডিপোগুলোর অব্যবস্থাপনায় পণ্য খালাসে দীর্ঘ সময় লাগায় পণ্য পরিবহনের ভাড়াও দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সরেজমিনে চট্টগ্রামের একাধিক বেসরকারি কনটেইনার ডিপো ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরিবহন খাতের এমন ভোগান্তির চিত্র উঠে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি আইসিডির সবকটিতেই কাভার্ডভ্যানের দীর্ঘ সারি। পণ্য খালাসের জন্য কোনো গাড়ি তিন দিন, আবার কোনোটি চার দিন ধরে সিরিয়ালের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
ঈদের আগে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পণ্য আসায় এই ভয়াবহ জটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিবহন মালিকদের দাবি, ডিপোতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পণ্য খালাসে ধীরগতি দেখা দিয়েছে এবং গাড়ি আটকে থাকছে।
ট্রাক ও কার্ভাডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহমেদ জানান, ডিপোতে আনলোড দ্রুত হলে ভাড়া বাড়ত না। একটি গাড়ি চার-পাঁচ দিন আটকে থাকায় বাজারে গাড়ির শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভাড়ায়।
জানা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহনের ভাড়া ১৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫০ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। পোশাক শিল্প মালিকরা এর জন্য ডিপোর অব্যবস্থাপনা এবং ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবকে দুষছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ বলেন, ‘কাভার্ডভ্যানগুলো অফডকে গেলে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না এবং ঠিকমতো পণ্য নামানো হয় না। গাড়ি আটকে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে চার-পাঁচ হাজার টাকার ভাড়ার বদলে ১৫-২০ হাজার টাকা দিতে হয়, যা উৎপাদনকারীদের জন্য বিশাল বোঝা।’
এদিকে পণ্য খালাসের ধীরগতির সুযোগে ডিপোর কর্মীরা গাড়িপ্রতি দেড় থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে চালকরা অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি সড়কে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়লেও প্রশাসন নির্বিকার বলে দাবি তাদের।
ভুক্তভোগী এক চালক জানান, ঢাকা থেকে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে আসার পর টাকা না দিলে গাড়ি ভেতরে ঢোকাতে দেওয়া হচ্ছে না। আরেক চালক বলেন, ‘পথে ২০০ টাকা চাঁদা না দিলে মারধর করা হয়, চালকদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।’
বন্দরনগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার কাভার্ডভ্যান চলাচল করলেও বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার গাড়িই আইসিডিতে আটকা পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ডিপোগুলোতে ৮ থেকে ১০ হাজার টিইইউএস রপ্তানি কনটেইনার থাকলেও এখন তা বেড়ে প্রায় ১৫ হাজার টিইইউএস ছাড়িয়েছে।