ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদল নেতার বিয়ে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভিন্ন মতাদর্শের এই বিয়েতে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।
গত বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের বগেরগাছি গ্রামে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিয়ের ছবি ও স্থানীয়দের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বগেরগাছি গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে এই বিয়ে হয়। বর মারুফ বিল্লাহ কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান আহ্বায়ক।
বিয়ের এই আয়োজনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়ে দুই ভিন্ন মেরুর পরিবারের এমন আত্মীয়তাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেকেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে দলীয় অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেছেন।
বিয়ের অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিবের উপস্থিতি এই আলোচনা আরও উসকে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কনেপক্ষ অর্থাৎ আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টু নিজ হাতে জামায়াতের ওই এমপিকে খাবার পরিবেশন করছেন।
সমালোচনার জবাবে বর ছাত্রদল নেতা মারুফ বিল্লাহ বলেন, অন্য দলের কারও মেয়েকে বিয়ে করা যাবে না, এমন কোনো নিয়ম সংবিধানে নেই। বিয়ে একটি সম্পূর্ণ সামাজিক বন্ধন। এটা নিয়ে যারা নেতিবাচক কথা ছড়াচ্ছে, তাদের মানসিকতাই নোংরা।
অন্যদিকে, বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব জানান, রাখালগাছি ইউনিয়নে তার নিজ গ্রাম। মূলত সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের টানেই তিনি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন।