ফরাসি কাপের ফাইনালে নিসকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছে আরসি লঁস। শিরোপা নির্ধারণী এই মহারণে দারুণ আধিপত্য দেখিয়ে ঐতিহাসিক এক জয় তুলে নেয় দলটি।
শুক্রবার (২২ মে) রাতে স্ট্যাদে দে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এই মেগা ফাইনালে নিসকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে লঁস। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ঐতিহাসিক এই শিরোপা জয়ের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
লঁসের এই স্বপ্নের মতো জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন দলের তারকা ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান থাউভিন। তিনি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন আরও একটি দর্শনীয় গোল।
ম্যাচের ২৫ মিনিটের মাথায় থাউভিনের গোলেই প্রথমে লিড পায় লঁস। এর মাধ্যমে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল—টানা তিন ধাপে জালের দেখা পাওয়ার অনন্য এক কীর্তি গড়েন এই ফরাসি স্ট্রাইকার।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মিনিট আগে থাউভিনের নেওয়া কর্নার কিক থেকে দারুণ হেডে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওদসোনে এদুয়ার্দ। তবে বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে নিসের হয়ে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন ডিজিব্রিল কৌলিবালি।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নিস আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। উল্টো ম্যাচের ৭৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে লঁসের ৩-১ গোলের জয় ও শিরোপা নিশ্চিত করেন আবদাল্লাহ সিমা।
কোচ পিয়েরে সেজের অধীনে তরুণ ও অভিজ্ঞদের দারুণ এক দল নিয়ে চলতি মৌসুমজুড়েই দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে লঁস। লিগ ওয়ানে শক্তিশালী পিএসজির সঙ্গে সমানতালে লড়ে মাত্র ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে রানার্সআপ হিসেবে লিগ শেষ করেছিল তারা।
অন্যদিকে, ফাইনালে দুবার পোস্টে বল লাগিয়েও গোলবঞ্চিত হওয়া নিসের জন্য এটি ছিল আরও একটি হতাশার রাত। মার্চের মাঝামাঝি থেকে লিগে জয়হীন থাকা দলটি এখন অবনমন অঞ্চলের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে।
শীর্ষ লিগে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এখন এএস সেন্ট-এতিয়েন্নের বিপক্ষে বাঁচামরার প্লে-অফ ম্যাচে মাঠে নামতে হবে নিসকে।