সাপে কাটা রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে গ্রামাঞ্চলের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেই বিষের প্রতিষেধক ‘অ্যান্টিভেনম’ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে জরুরি ভিত্তিতে দেশের প্রতিটি জেলায় এই জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে দেশের সব সিভিল সার্জনকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানোর মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন তৌহিদুল আনোয়ার সংবাদমাধ্যমকে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে দেশে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি জেলার জন্য ৩০ ভায়েল করে অ্যান্টিভেনম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জনরা নিজ নিজ আওতাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনা করে আনুপাতিক হারে এই ওষুধগুলো সরবরাহ করবেন।
এ ছাড়া আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিনিধি পাঠিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ করতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওষুধের গুণগত মান যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য সম্পূর্ণ ‘কোল্ড চেইন’ বা শীতলীকরণ প্রক্রিয়া মেনে এগুলো পরিবহনের ওপর চিঠিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল ঢাকা পোস্টে ‘সাপে কাটে গ্রামে, অ্যান্টিভেনম থাকে শহরে; মৃত্যু হয় পথেই’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই বিষয়টি সরকারের নজরে আসে এবং দ্রুত সংকট নিরসনে সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রতিষেধক পৌঁছানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।