কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর পোশাকে আরও এক ব্যক্তির রক্তের নমুনা খুঁজে পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর মাধ্যমে আলোচিত এই হত্যা মামলায় আগে পাওয়া তিন পুরুষের নমুনার পাশাপাশি এখন মোট চারজনের ডিএনএ অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া গেল।
রোববার (১৭ মে) রাতে পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরের পরিদর্শক এবং মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে সিআইডিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক মাস আগে সিআইডি থেকে আসা প্রতিবেদনে তিন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি চতুর্থ এক ব্যক্তির রক্তের উপস্থিতির কথা জানানো হয়।
২০১৭ সালে ডিএনএ পরীক্ষায় তিন পুরুষের প্রোফাইল পাওয়ার তথ্য সামনে এলেও নতুন এই রক্তদাতার পরিচয় শনাক্ত করা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বর্তমানে পিবিআই এই নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
শুরুতে পুলিশ ও ডিবি এই মামলার তদন্ত করলেও পরে তা সিআইডির হাতে ন্যস্ত করা হয়। দীর্ঘ সময়েও কোনো সংস্থা দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে না পারায় ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তনুর পোশাকে পাওয়া চারজনের নমুনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।