ইসলামি শরিয়তে কোরবানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ইবাদত, যা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আদায় করতে হয়। তবে পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক ত্রুটি থাকলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ বলে গণ্য হয় না।
ইসলামি চিন্তাবিদ ও শরিয়ত বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কোরবানির পশুর বয়স ও শারীরিক ত্রুটির এসব বিধিনিষেধ সম্পর্কে জানা যায়।
কোরআনে আছে, ‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কোরবানির একটি পদ্ধতির প্রচলন করেছি। তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিজিক দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ওপর তারা যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সুরা হজ, আয়ত: ৩৪)
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি করতে হবে অহিংস্র ও গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী দিয়ে। উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এবং দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো পশু কোরবানির জন্য মহানবী (সা.) অনুমোদন দেননি।
কোরবানির পশুর বয়সের বিষয়ে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা জানান, উটের বয়স অন্তত পাঁচ বছর হতে হবে। এছাড়া গরু বা মহিষের বয়স দুই বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর পূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
নির্দিষ্ট বয়স ও জাতের প্রাণী হলেও পশুটিকে হতে হবে পুরোপুরি দোষত্রুটিমুক্ত। কোনো পশুর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি না থাকলে সেটি দিয়ে কোরবানি আদায় হবে না।
এছাড়া পশুর জন্মগতভাবে কান না থাকা, কানের বা লেজের বেশিরভাগ অংশ কাটা থাকলেও কোরবানি হবে না। গোড়াসহ শিং উপড়ে যাওয়া বা বেশিরভাগ দাঁত পড়ে যাওয়া পশুও কোরবানির জন্য অযোগ্য।
অত্যন্ত জীর্ণশীর্ণ বা দুর্বল পশু, যেটি জবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম, তা দিয়ে কোরবানি দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়। পাশাপাশি পাগল হওয়ার কারণে যেসব পশু ঠিকমতো ঘাস-পানি খায় না, সেগুলোও বর্জন করতে হবে।
রোগের কারণে কোনো পশুর স্তনের দুধ শুকিয়ে গেলে তা কোরবানির অযোগ্য। এমনকি গরু বা মহিষের চারটি দুধের মধ্যে যেকোনো দুটি এবং ছাগলের দুটির মধ্যে একটি কাটা থাকলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি হবে না।
বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) হাত দিয়ে ইশারা করে বলেছেন, চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় না। সেগুলো হলো, যে পশুর এক চোখের দৃষ্টিহীনতা স্পষ্ট, যে পশু অতিশয় রুগ্ণ, যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং যে পশু এত শীর্ণ যে, তার হাড়ে মজ্জা নেই। লোকেরা বলল, ‘আমরা তো দাঁত, কান ও লেজে ত্রুটিযুক্ত প্রাণী (দিয়ে কোরবানি করা)ও অপছন্দ করি।’ তিনি বললেন, যা ইচ্ছা অপছন্দ করতে পারো। তবে তা অন্যের জন্য হারাম করো না।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৯১৯)
আলি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের আদেশ করেছেন, আমরা যেন কোরবানির পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে লক্ষ করি। যে পশুর কানের অগ্রভাগ বা পশ্চাদভাগ কাটা, তা দিয়ে যেন কোরবানি না করি। যে পশুর কান ফাড়া বা কানে গোলাকার ছিদ্র আছে, তা দিয়েও যেন কোরবানি না করি।’ (সুনানে আবু দাউদ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৮৮)