সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের জেরে পাঁচ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্মম এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লহ্মীদাড়ী এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই গৃহবধূর নাম তাছলিমা খাতুন। তিনি সদর উপজেলার উত্তর বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামানের মেয়ে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন লহ্মীদাড়ী গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। এই দম্পতির ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে এবং ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
নিহতের মেয়ে সাদিয়া খাতুন জানায়, তার বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। আর ঝগড়া হলেই সাদ্দাম ছুরি নিয়ে তাছলিমাকে হত্যার হুমকি দিত। ঘটনার রাতে সাদ্দাম অন্য ঘরে ঘুমিয়েছিল। পরে সে তাছলিমাকে ডেকে পাশের ঘরে নিয়ে যায়।
সাদিয়া আরও বলে, "কিছুক্ষণ পর গরুর মতো গোঙানির আওয়াজ শুনে আমি ঘরের বাইরে আসার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি আমাদের দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া। তখনই বুঝতে পারি, মাকে বাবা খুন করেছে।"
নিহত তাছলিমার বাবা নুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, যৌতুকের দাবিতে সাদ্দাম তার মেয়ের ওপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন চালাত। কিছু টাকা দিলে কিছুদিন শান্ত থাকত সে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে ফোন করে জানানো হয় যে, সাদ্দাম তাছলিমাকে জবাই করে হত্যা করেছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
ওসি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী পলাতক রয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।