কঠোর কোনো ডায়েট বা কঠিন ব্যায়াম নয়, প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় ছোট ৮টি পরিবর্তনের মাধ্যমেই ১৪ কেজি ওজন কমিয়েছেন এক ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার। ৬৭ থেকে ৫৩ কেজিতে নেমে আসার সেই জাদুকরি অভ্যাসগুলো সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ওজন কমানো মানেই যে না খেয়ে থাকা বা কঠিন নিয়মকানুন মেনে চলা, এমন ধারণা মোটেও সঠিক নয়। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থভাবে মেদ ঝরাতে ওই ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সারের বাতলে দেওয়া ৮টি সহজ কৌশল বেশ কার্যকর:
জাঙ্ক ফুড একেবারে বাদ নয়: প্রিয় খাবার থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রাখলে পরবর্তীতে একবারে বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা বাড়ে। তাই ইচ্ছে হলে পরিমিত পরিমাণে জাঙ্ক ফুড খেয়ে মনকে শান্ত রাখা ভালো। তবে তা যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়।
নিয়মিত হাঁটা: দিনে ১০ হাজার কদম না পারলেও প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটার অভ্যাস করুন। এটি হৃদযন্ত্র ভালো রাখার পাশাপাশি দ্রুত চর্বি গলাতে দারুণ সাহায্য করে।
রাতে শর্করা কমানো: রাতের খাবারে ভাত বা রুটির বদলে ডিম, পনির, ডাল বা মুরগির মাংস রাখুন। কার্বোহাইড্রেট কম খেলে শরীর হালকা থাকবে এবং গভীর ঘুম হবে।
ধীরে ধীরে খাওয়া: তাড়াহুড়ো না করে খাবার ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে মস্তিষ্ক পেট ভরার সংকেত বুঝতে পর্যাপ্ত সময় পায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার আশঙ্কা কমে যায় এবং হজমপ্রক্রিয়া ভালো হয়।
খাবারের আগে পানি পান: মূল খাবার খাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে এক গ্লাস পানি পান করা উচিত। এটি পেট কিছুটা ভরিয়ে রাখে এবং পরিমিত খেতে সহায়তা করে।
রোজ ওজন মাপার অভ্যাস ত্যাগ: প্রতিদিন ওজন মাপলে মানসিক চাপ বাড়ে, যা ওজন কমানোর যাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সপ্তাহে নির্দিষ্ট এক দিন ওজন মাপাই সবচেয়ে আদর্শ।
পর্যাপ্ত ঘুম: অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরে ক্ষুধা ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়িয়ে দেয়। স্বাস্থ্যকর উপায়ে মেদ ঝরাতে চাইলে প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।
নেতিবাচক মানসিকতা পরিহার: ‘আজ তো নিয়ম ভাঙলাম, থাক কাল থেকে শুরু করব’—এমন মানসিকতা বাদ দিতে হবে। কোনো একদিন রুটিনে এদিক-সেদিক হলেও হাল না ছেড়ে সেখান থেকেই আবার শুরু করুন।
মূলত এগুলো কোনো কঠিন ডায়েট চার্ট নয়, বরং জীবনযাপনের ইতিবাচক পরিবর্তন। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই এই সহজ অভ্যাসগুলো ওজন কমানোর ক্ষেত্রে জাদুর মতো কাজ করবে।