টেকনাফের পাহাড়ে ফের যৌথবাহিনীর অভিযান, তিন মরদেহের সন্ধান

আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০১:৪৮:২৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০১:৪৮:২৫ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানা ও বন্দিশালা নির্মূলে আবারও অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়ার পর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।
 

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা-রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান শুরু হয়। এতে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
 

সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানের লক্ষ্য মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানা ও বন্দিশালা নির্মূল করা।
 

এর আগে পাহাড়ের বন্দিশালা থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৭ জনকে শুক্রবার টেকনাফ মডেল থানার প্রাঙ্গণে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন রোহিঙ্গা ও ৫১ জন বাংলাদেশি।
 

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান অভিযান ও তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রঙ্গীখালীর পাহাড়ে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেলেও উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
 

মরদেহগুলোর পরিচয়ও এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।
 

এর আগে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজন শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। বন্দিশালার কাছাকাছি তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
 

তবে মরদেহগুলো মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের, নাকি বন্দিদশা থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো ভুক্তভোগীর, তা নিশ্চিত করতে পারেননি শহিদুল।

 

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনায় পাহাড়ের গোপন বন্দিশালায় মানবপাচারকারী চক্রের প্রতারণা, জিম্মি ও নির্যাতনের নানা তথ্য উঠে এসেছে।
 

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে কক্সবাজারে ডেকে নেওয়া হয়। পরে পাহাড়ের একটি গোপন আস্তানায় আটকে রাখা হয় তাঁকে। সেখানে টানা আট দিন বন্দি ছিলেন তিনি।
 

আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, বন্দিদশা থেকে দুবার পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। ওই আস্তানায় ৫০ জনের বেশি মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাঁদের সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল।
 

সশস্ত্র ব্যক্তিরা পাহাড়ি আস্তানাটি পাহারা দিতেন। বন্দিদের মুঠোফোনসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়ায় বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না।
 

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, টেকনাফের দুর্গম পাহাড় দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারী চক্রের গোপন আস্তানা ও বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
 

চাকরি কিংবা বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লোকজনকে এসব আস্তানায় নিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় অথবা সাগরপথে পাচারের চেষ্টা চলে।
 

এদিকে পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর ও সশস্ত্র অপরাধীদের তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানা নির্মূল ও পাহাড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাম্মদ আরিজ উলফি 
নির্বাহী সম্পাদক: আবুল হুসাইন 
সহযোগী সম্পাদক: মো: মনিরুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক: সাইফুর রহমান প্রিন্স 
সহযোগী সম্পাদক: মো: আলমগীর হোসেন

ঠিকানা:
সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
টেলিফোন: +৮৮০২২২২২২৩৫৫০
ইমেইল : shokolshongbad@gmail.com