‘গাজার শিশুরাও আমাদের সন্তান’, লন্ডনে কনসার্টে ম্যাকলমোর

আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ ১১:২৬:৫৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৬ ১১:২৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং দেশটির মানুষের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ইউরোপের তিন শহরে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ শীর্ষক কনসার্ট আয়োজন করেছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ডাবলিন ও প্যারিসের পর লন্ডনে শেষ হয়েছে এই আয়োজন। শেষ কনসার্টে গাজার শিশুদের প্রসঙ্গ তুলে ম্যাকলমোর বলেন, ‘গাজার ওই শিশুরা আমাদের সন্তান। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিভাজন নেই।’
 

লন্ডনের ওভিও অ্যারেনা ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত শেষ কনসার্টে সংগীতশিল্পী পালোমা ফেইথ ও নেমাহসিসের পাশাপাশি অংশ নেন জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী আরব বারঘুতি। আরব বারঘুতি ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারঘুতির ছেলে।
 

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাবলিন, প্যারিস ও লন্ডনের তিনটি কনসার্টের টিকিট বিক্রি শুরুর পরপরই শেষ হয়ে যায়। ম্যাকলমোরও বিষয়টি জানিয়েছেন।
 

গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে একটি কনসার্টে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়ার পর এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বাকি অনুষ্ঠানগুলো থেকে বাদ পড়েন ম্যাকলমোর। এরপরই তিন শহরে এই কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেন তিনি।

 

লন্ডনের কনসার্টে গাজা যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ম্যাকলমোর বলেন, এ বিষয়ে নীরব থাকা তাঁর কাছে কথা বলার চেয়েও বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল।
 

তিনি বলেন, ‘আমি স্ক্রল করছিলাম, একের পর এক স্ক্রল করছিলাম। আর আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ, অকল্পনীয় বিপর্যয় দেখছিলাম। একটা পর্যায়ে এসে আমার কাছে মনে হয়েছে, কিছু বলার চেয়ে নীরব থাকাটাই বেশি অস্বস্তিকর।’
 

তবে নিজের বক্তব্যকে সাহসিকতা বা বীরত্বের কাজ বলে মনে করেন না তিনি। তাঁর ভাষায়, কিছু বলা সাহসিকতা কিংবা বীরত্বের বিষয় নয়। বরং বৈশ্বিক সম্প্রদায় হিসেবে মানুষের মধ্যে বিভাজন ও সীমান্ত দূর করতে কী করা হচ্ছে, সেটিই ভাবার বিষয়।

 

লন্ডনের অনুষ্ঠানে অন্যতম আলোচিত বক্তব্য দেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী আরব বারঘুতি। মঞ্চে তিনি তাঁর বাবা মারওয়ান বারঘুতির দীর্ঘদিনের কারাবাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
 

আরব বলেন, ‘ইসরায়েল ২৪ বছর আগে আমার বাবাকে বন্দি করেছিল, যাতে তাঁর জনগণ এবং বিশ্ব তাঁকে ভুলে যায়। কিন্তু নিপীড়কেরা একটি বিষয় বোঝে না—আশাকে বন্দি করা যায় না।’
 

ফিলিস্তিনের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মারওয়ান বারঘুতি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
 

কনসার্টের উদ্বোধন করেন জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। তিনি বলেন, শুধু দাতব্য কনসার্ট আয়োজন বা অর্থ সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাঁর ভাষায়, ‘দাতব্য কর্মকাণ্ড ও স্লোগানের মাধ্যমে দখলদারত্বের অবসান হবে না।’ সংহতির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
 

সংগীতশিল্পী পালোমা ফেইথও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার ঝুঁকি ও অস্বস্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন করেন, গাজা, ফিলিস্তিন, সুদান, ইয়েমেন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের শিশুদের চেয়ে নিজের সন্তানদের কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হবে?
 

ফেইথ বলেন, প্রতিটি শিশুরই অধিকার রয়েছে নিরাপদে বেড়ে ওঠার। কিন্তু বর্তমান পৃথিবী শিশুদের জন্য খুব একটা নিরাপদ বলে মনে হচ্ছে না।
 

ফিলিস্তিনি-কানাডীয় সংগীতশিল্পী নেমাহসিসও অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন। তাঁর প্রকৃত নাম নেমাহ হাসান। এনএমইর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার অস্তিত্বই প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ।’
 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া স্টিফেন কাপোস এবং ১৯৪৮ সালের নাকবার সময় বাস্তুচ্যুত হওয়া ফিলিস্তিনি আন্তোয়ান রাফুল। এ ছাড়া অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম অনুষ্ঠানে একটি বার্তা পাঠান।

 

গত ২৬ অক্টোবর ডাবলিনের থ্রি অ্যারেনায় কনসার্টের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই সফর। সেখানে ম্যাকলমোরের সঙ্গে অংশ নেন আইরিশ সংগীতশিল্পী হোজিয়ার, বেলফাস্টের র‍্যাপ দল কিনিক্যাপ এবং লোকসংগীতের দল বিওগা। ম্যাকলমোরের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিওগা এর আগে এড শিরানের সফর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছিল।
 

ডাবলিনের কনসার্টে আরও অংশ নেন ফিলিস্তিনি সংগীতশিল্পী লিনা মাকুল, লিয়াম কানিংহাম ও ডেড প্রেজ। অনুষ্ঠানে হোজিয়ার আয়ারল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য ভিসার অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা গাজার ৫৫ শিক্ষার্থীর বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
 

ডাবলিনের দর্শকদের উদ্দেশে ম্যাকলমোর বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান কারও বিরুদ্ধে নয়, বিভাজন বা ঘৃণা ছড়ানোর আহ্বানও নয়। বরং এটি সবার অভিন্ন মানবিকতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ডাক।
 

এরপর ২৯ অক্টোবর প্যারিসের অ্যাকর অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হয় সফরের দ্বিতীয় কনসার্ট। এতে অংশ নেন অরোরা, পম, পর্তুগাল দ্য ম্যান, ডিজে হাবিবিটস, রেডভেইল, সিবা, তামের নাফার, জিউহতেজকাটল মার্তিনেজ ও জেইন।
 

প্যারিসের দর্শকদের উদ্দেশে ম্যাকলমোর বলেন, তাঁরা এসেছেন সবার সম্মিলিত মুক্তি, স্বাধীন ফিলিস্তিন এবং পৃথিবীর সব মানুষের জীবন ও মর্যাদা উদ্‌যাপন করতে।
 

তিন শহরের কনসার্টেই সংগীতশিল্পী, অধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এ বিষয়ে আরও জোরালো রাজনৈতিক চাপ তৈরির আহ্বান জানান।

 

তিনটি কনসার্টই ছিল অর্থ সংগ্রহের আয়োজন। এসব অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ১২টি সংগঠনের কাছে দেওয়া হবে।
 

সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টাইনস, জিউইশ ভয়েস ফর পিস, প্যালেস্টিনিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্ট, ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিং এবং গ্লিয়া।
 

ম্যাকলমোরের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগীত, সংস্কৃতি ও অধিকারকর্মীদের এক মঞ্চে এনে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি মানবিক সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাম্মদ আরিজ উলফি 
নির্বাহী সম্পাদক: আবুল হুসাইন 
সহযোগী সম্পাদক: মো: মনিরুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক: সাইফুর রহমান প্রিন্স 
সহযোগী সম্পাদক: মো: আলমগীর হোসেন

ঠিকানা:
সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
টেলিফোন: +৮৮০২২২২২২৩৫৫০
ইমেইল : shokolshongbad@gmail.com