ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, কমিশনের পদত্যাগ দাবি জামায়াত প্রার্থীর
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি, জাল ভোট ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের জুলাই চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান।
গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লি) আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি, জাল ভোট প্রদান, নির্বাচনি এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে আক্রমণ ও ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।
সমাবেশে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের আগে দেশের নির্বাচনগুলোতে যেভাবে ভোট কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছিল, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে শুরু করে শেরপুর, বগুড়া এবং সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনেও একই চিত্র দেখা গেছে বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁর দাবি, এসব ঘটনা প্রমাণ করে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি ‘অথর্ব ও ক্যাঙ্গারু নির্বাচন কমিশন’। গত ২৯ অক্টোবর সরকার ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে কমিশন প্রহসনের নির্বাচন আয়োজন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ব্যর্থতার দায় নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
সমাবেশে জামায়াতের এ প্রার্থী নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁরা পরবর্তী কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। পরিকল্পিত ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলারও ঘোষণা দেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ফল তৈরি করা হয়েছে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো অধ্যায়। নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার কর্মী-সমর্থকদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। এতে অনেকে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন জামায়াতের এ প্রার্থী। একজন নারী কর্মীকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এসব অভিযোগের উপযুক্ত জবাব ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ দেবেন বলে মন্তব্য করেন দেলাওয়ার হোসেন।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর, প্রেস সেক্রেটারি অধ্যক্ষ শাহ জালাল জুয়েল, শহর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুজ্জামান শাহ শামীম, সদর আমির মাওলানা মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশের আগে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের জুলাই চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা মোড় হয়ে পুনরায় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।