আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কাজ ও মান নিয়ে বিতর্ক থামছে না। ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার নিয়ে তুমুল সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বাংলা, ইংরেজি এবং বিজ্ঞান বইয়ে ‘নৌকা’র ছবি থাকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আপত্তি উঠেছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন ছবি নিয়ে আপত্তি ও সংশোধনের দাবির পাশাপাশি মুদ্রণকাজে ধীরগতি, দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ এবং নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের কারণে আগামী জানুয়ারিতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো বই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হলে তা নিয়ে আপত্তি ওঠে। পরবর্তীতে এনসিটিবি ওই পৃষ্ঠা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বইটিতে কোনো প্রতীক বা আইকন না রেখে কেবল উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চার স্তরের নাম রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে সরবরাহ করা বইগুলো থেকে বিতর্কিত পৃষ্ঠা সংশোধন বা পরিবর্তনের কাজ চলছে।
দাঁড়িপাল্লার বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে থাকা এসব ছবি নতুন করে যুক্ত করা হয়নি, বরং ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বইয়েও একই ছবি ছিল এবং বিষয়বস্তুর প্রয়োজনেই এগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। তবে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে পাঠ্যবই ছাপার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্টরা। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার কাজ সবচেয়ে ধীরগতিতে চলছে। মাধ্যমিকের মোট বইয়ের মাত্র ২৮ দশমিক ৩২ শতাংশের প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরের কাজ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইবতেদায়ি স্তরেও গতি কম। এছাড়া দরপত্র প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট ও তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযানও পরিচালনা করেছে।
সব মিলিয়ে পাঠ্যবইয়ের ছবি নিয়ে নানা বিতর্ক, মুদ্রণকাজে ধীরগতি এবং অনিয়মের অভিযোগে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণ প্রক্রিয়া বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে এনসিটিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মানসম্মত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে তাঁরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন এবং ভুলত্রুটিগুলো সঙ্গে সঙ্গেই সংশোধন করা হচ্ছে।