প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে অন্তত চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার রূপরেখা তুলে ধরে একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাগোনিউজ২৪-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, এই সফরকে কেন্দ্র করে আটটি চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার আধুনিকায়ন খাতে একাধিক এমওইউ সই হতে পারে।
জানা গেছে, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়টি এই সফরে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। একইসঙ্গে, ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জাপানি ঋণের সুদের হার কমানো ও অর্থায়নের শর্ত নিয়েও আলোচনা হবে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি জাইকা (JICA), জেবিআইসি (JBIC) এবং জেট্রো (JETRO) প্রধানদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। সফরসূচিতে চিবা অঞ্চলের একটি এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত আছে।
এছাড়া, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি, জ্বালানি সংকট এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে জাপানের শীর্ষ মহলের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকছেন।