ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক প্রশিক্ষণশিবিরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুই শতাধিক সদস্য।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাত দিয়ে দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে সোমবার দেশটির শাবওয়া প্রদেশের আল-আলম সামরিক শিবিরে এ হামলা চালানো হয়।
সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলাকালে শিবিরটি লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুথিরা।
হামলার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে ১৮ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে হতাহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি জানান, নিহতরা সবাই সদ্য নিয়োগ পাওয়া সদস্য ছিলেন। বর্বরোচিত এ হামলার জবাবে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এদিকে আলজাজিরার সানা প্রতিনিধি ইউসুফ মাওরি জানান, হুথিরা এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর উপস্থিতি থাকায় ওই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি জোটের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন যেকোনো স্থানকে ভবিষ্যতে তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূলে সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে কৌশলগত কয়েকটি অঞ্চল হুথিরা পুনর্দখল করার পর থেকেই সেখানে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে।
হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখতে সরকারি বাহিনীও রাজধানী সানা পুনরুদ্ধারে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। এর মধ্যেই সামরিক শিবিরে এমন রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটল।