গ্যালারি থেকে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। একইসঙ্গে দলটির পরবর্তী ঘরের মাঠের ম্যাচে স্টেডিয়ামের অন্তত ১৫ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে ফিফার এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে স্পেন ও মিসরের মধ্যকার একটি প্রীতি ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। ওই ম্যাচের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের একদল উগ্র সমর্থক গ্যালারি থেকে মুসলমানদের লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক স্লোগান দিতে থাকেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় সতর্কবার্তা প্রচার এবং দর্শকদের স্লোগান থামাতে বলা হয়। কিন্তু এরপরও গ্যালারির কয়েকটি অংশ থেকে উল্টো দুয়োধ্বনি শোনা যায়।
এই ঘটনাকে ইসলামবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী আচরণ হিসেবে আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তে নামে ফিফা।
যদিও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের দাবি ছিল, ‘মুসলিম’ শব্দটি নিজে থেকে কোনোভাবেই অপমানজনক বা বৈষম্যমূলক নয়।
তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি স্পেনের এই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে। কমিটি জানিয়েছে, কোনো শব্দ আলাদাভাবে আপত্তিকর না হলেও ধর্মীয় পরিচয়কে হেয় বা উপহাস করার উদ্দেশ্যে সেটি ব্যবহার করলে তা অবশ্যই বৈষম্যমূলক আচরণ।
অবশ্য স্প্যানিশ কর্মকর্তারা সেসময় তাৎক্ষণিকভাবে যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করেছিলেন, শাস্তির ক্ষেত্রে ফিফা সেটিও আমলে নিয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনি বলেন, কিছু সহিংস মানসিকতার মানুষ ফুটবলকে নিজেদের নোংরা কর্মকাণ্ডের মঞ্চ বানাচ্ছে।
স্পেনের মুসলিম তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামালও দর্শকদের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন। ধর্মকে কটাক্ষের হাতিয়ার বানানোকে চরম বর্ণবাদী ও অসম্মানজনক আচরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টিকে ‘ঘৃণ্য বর্ণবাদী আচরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে অল্পসংখ্যক সমর্থকের এমন আচরণের কারণে দুই দেশের ফেডারেশনের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও জানিয়েছে তারা।
ফিফা জানিয়েছে, আসন ফাঁকা রাখার এই নিষেধাজ্ঞা স্পেনের আগামী ঘরের মাঠের প্রীতি ম্যাচে কার্যকর করা হবে। কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ক্ষেত্রে এই শাস্তি প্রযোজ্য হবে না।