যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ইরাক। 'আসায়িব আহল আল-হক' নামের ওই গোষ্ঠীর নেতা লাইথ আল-খাজালিকে এই পদে বসানোর মধ্য দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গ হলো।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরাকের পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে তিন উপপ্রধানমন্ত্রী ও ১১ জন নতুন মন্ত্রীর নিয়োগ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নায়েফ আল-শাম্মারিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ইয়াসির আল-মালিকিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন উপপ্রধানমন্ত্রী লাইথ আল-খাজালি মূলত আসায়িব আহল আল-হক গোষ্ঠীর প্রধান কাইস আল-খাজালির ভাই। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই সশস্ত্র সংগঠনটিকে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।
একইসঙ্গে দুই ভাইকে বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবেও ঘোষণা করে মার্কিন প্রশাসন। এছাড়া ২০১৯ সালে ইরাকে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে সাধারণ মানুষকে হত্যার অভিযোগে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।
এমনকি ২০০৭ সালে পাঁচ মার্কিন সেনাকে হত্যার পেছনেও এই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
এদিকে, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের কারণে ইরাক বর্তমানে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই সংঘাতের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত ইরাক। এই তেল বিক্রি থেকেই সরকারের মোট রাজস্বের প্রায় ৯০ শতাংশ আয় আসত।
কিন্তু যুদ্ধের কারণে তেল রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এ অবস্থায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পরিশোধের জন্য ইরাকি মুদ্রা দিনারের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে।
সংকটের এই সময়ে বিদেশি ইন্ধন ছাড়া পরিচালিত অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি। একইসঙ্গে ইরাকের মাটি থেকে পুরোপুরিভাবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।