বিশ্ববাজারে দীর্ঘ সময় ধরে ডিজেলের সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে গুরুতর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিটির দাম চড়া থাকার পাশাপাশি পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় ব্যাপক হারে বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও ত্বরান্বিত হবে। একইসঙ্গে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও।
জ্বালানি বাজারের চলমান অস্থিরতা কাটাতে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ঠিক কতটা তেল কখন ছাড়া হবে, সেই প্রস্তুতির মধ্যেই নতুন করে এই সতর্কবার্তা দিল আইইএ।
শিল্পকারখানা, কৃষি, ব্যক্তিগত যানবাহন ও পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ফলে এই জ্বালানির দাম রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছানোয় বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তারা আগে থেকেই বাড়তি খরচের চাপে রয়েছেন।
এদিকে, জ্বালানি সংকট কাটাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে ডিজেলের মজুত কমিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইইএ তাদের মাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ডিজেলের এই রেকর্ড দাম এরই মধ্যে অর্থনীতির নানা খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ায় মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে।
সংস্থাটি বলছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিঘ্নের কারণে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বছরের বর্তমান সময়ে সাধারণত জ্বালানির মজুত বাড়ার কথা থাকলেও উল্টো তা কমছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা আইইএ-এর। সংস্থাটির মতে, ২০২৭ সালের আগে বাজারে সরবরাহে উদ্বৃত্ত তৈরি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডিজেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব কেবল এক খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ও কৃষির খরচ বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দামও বাড়বে, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে।