ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার প্রভাবে ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি ০.৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত আইএমএফের পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। ছয় মাস আগে সংস্থাটি এ অঞ্চলে ১.৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখিয়েছিল।
নতুন পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে অর্থনৈতিক সংকোচনের আশঙ্কা করা হয়েছে। আইএমএফের মতে, যুদ্ধের কারণে তেল উৎপাদন, জাহাজ চলাচল ও রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে; দীর্ঘ সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের অর্থনীতি দুই অঙ্কের হারে সংকুচিত হতে পারে। তবে তেল উৎপাদন এবং বাণিজ্যপথ স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে এসব দেশে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশভিত্তিক পূর্বাভাসে ইরানের অর্থনীতি ৭.৬ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। সৌদি আরবের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩.৩ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ৩.৯ শতাংশ কমতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে চলতি বছর কেবল ওমানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, দেশটির অর্থনীতি ২.৪ শতাংশ বাড়তে পারে।
তবে ২০২৬ সালের মন্দার পর ২০২৭ সালে অঞ্চলটিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর আয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।