ভারতের দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে চলমান আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়ায় একটি দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছে এশিয়া পোস্ট।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে কয়েক দিন ধরে দিল্লিসহ দেশটির একাধিক শহরে বিক্ষোভ চলছে।
দিলীপ ঘোষের দাবি, বাংলাদেশের কয়েকজন মন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট দেখলেই আন্দোলনের পেছনে কারা রয়েছেন এবং তাঁদের উদ্দেশ্য কী, তা বোঝা যাবে। বিদেশ থেকে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই আন্দোলনে বিদেশি রাষ্ট্রের মদদ ও অর্থায়ন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গের এই মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিদেশি অনুদানের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে ‘ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট’ (এফসিআরএ)–সংক্রান্ত একটি বিল আনছে।
দিলীপ ঘোষের মতে, ওই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতেই আন্দোলন চালানো হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতা কিংবা বিদেশি অর্থায়নের বিষয়ে তাঁর অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
আন্দোলনে সমর্থন জানানো তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচির পেছনে কার্যকর কোনো লক্ষ্য নেই; বরং তারা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে।
এ সময় তিনি আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে কটাক্ষও করেন। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের সমর্থন হারানো দলগুলো রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে বিভিন্ন আন্দোলনের ওপর নির্ভর করছে।