গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধে এক বৃদ্ধের জানাজা ও দাফন বিলম্বিত হয়েছে। পরে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে বোনকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে বাবার দাফনে সম্মতি দেন মেয়ে হালিমা বেগম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিদহ বকশিগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত নাজির উদ্দিন বেপারী (৭৫) পেশায় কৃষক ছিলেন এবং রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ উপলক্ষে এলাকায় মাইকিংও করা হয়, তবে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে আপত্তি তোলেন নাজির উদ্দিনের মেয়ে হালিমা বেগম।
হালিমার দাবি, বাবার সম্পত্তিতে তাঁর ন্যায্য অংশ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত জানাজা ও দাফন করা উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ভাই ইদ্রিস আলী সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন।
এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমঝোতার উদ্যোগ নেন। প্রথম দফায় চেষ্টা সফল না হওয়ায় সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে দুই পক্ষকে নিয়ে আবার বৈঠক হয়।
বৈঠকে স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান, ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, ধাপেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রেজাউল করিমসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার একপর্যায়ে বোন হালিমা বেগমকে জমিজমার বিষয়টি মীমাংসার জন্য দেড় লাখ টাকা দিতে সম্মত হন ভাই ইদ্রিস আলী। পরে তাঁর হাতে একটি ব্যাংক চেক তুলে দেওয়া হলে বাবার দাফনে সম্মতি দেন হালিমা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসে আলোচনা করা হয়। একপর্যায়ে ইদ্রিস আলী তাঁর বোনকে দেড় লাখ টাকা দিতে রাজি হন এবং চেক দেওয়ার পর দাফনের বিষয়ে সম্মতি পাওয়া যায়।
ধাপেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই রেজাউল করিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সমঝোতার পর বাদ মাগরিব জানাজা শেষে নাজির উদ্দিন বেপারীর মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, সম্পত্তি হস্তান্তর ও বিরোধের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইদ্রিস আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।