দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে শত শত আটক, মমতা-কেজরিওয়ালও হেফাজতে

আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৬:১৮:২৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৬:১৮:২৩ অপরাহ্ন

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভ ঘিরে শত শত মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
 

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় এলাকার কয়েকটি স্থানে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ এবং বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা হয়।
 

বিক্ষোভকারীদের পরিকল্পনা ছিল, দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার যন্তর মন্তরে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হবেন। তবে কর্মসূচি শুরুর আগেই নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকা ঘিরে ফেলে। এরপরও শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় দিল্লিতে তরুণ বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দেন। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে এবং অনেককে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও সেখানে নতুন করে লোকজন জড়ো হতে থাকেন।
 

পুলিশের সঙ্গে যাওয়ার সময় যোগেন্দ্র সোলাঙ্কি রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি জনগণের অধিকার লঙ্ঘন। দেশ আর এটি সহ্য করবে না।’
 

সিজেপির এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং জ্যেষ্ঠ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়।
 

টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, উড়োজাহাজের ভেতরে অভিজিৎ দীপক পুলিশ কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ করছেন। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি গ্রেপ্তার হতে এসেছি, আমাকে গ্রেপ্তার করুন। আপনাদের ভয় পাই না।’ জবাবে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না জানিয়ে সহযোগিতা করতে বলেন।
 

নেতাদের আটকের নিন্দা জানিয়েছে ককরোচ আন্দোলন। সংগঠনটি ঘটনাটিকে ‘কর্তৃত্ববাদী আটক’ আখ্যা দিয়ে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করেছে। একই সঙ্গে নেতাদের আটক করা হলেও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
 

টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও আটক করা হয়। এ ছাড়া বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় দুটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের চার সাংবাদিক এবং রয়টার্সের এক সাংবাদিককে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
 

সুপ্রিম কোর্টের বাইরে বিক্ষোভরত কয়েকজন আইনজীবীকেও আটক করা হয়। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালতের আইনজীবী সমিতির সভাপতি। এসব আটকের বিষয়ে পুলিশের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
 

দিল্লির প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশিচৌকি বসানোর পাশাপাশি যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। বিভিন্ন বাসে উঠে বিক্ষোভকারীদের খোঁজ করে পুলিশ। সড়কে ব্যারিকেড ও কংক্রিটের প্রতিবন্ধক বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের সরঞ্জামযুক্ত দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানও মোতায়েন ছিল।
 

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক

 

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। তাদের দাবি, তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কারণে সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনের ফল প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। এসব নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়েছে।
 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর গত সপ্তাহের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

তবে জ্ঞানেশ কুমার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির বক্তব্য, নির্বাচনে তাদের সাফল্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধীরা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ দলটির।
 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অন্যত্র চলে গেছেন, ৩ কোটি মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
 

কমিশনের দাবি, খসড়া ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় চিহ্নিত নামগুলোই বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে যোগ্য কোনো ভোটারের নাম ভুলবশত বাদ পড়লে তিনি পুনরায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন।
 

শনিবারের বিধিনিষেধের সমালোচনা করে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, মোদি সরকার কার্যত জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্রের দাবি, জনতার বিশৃঙ্খলার ওপর গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।
 

ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক ও চলমান বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাম্মদ আরিজ উলফি 
নির্বাহী সম্পাদক: আবুল হুসাইন 
সহযোগী সম্পাদক: মো: মনিরুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক: সাইফুর রহমান প্রিন্স 
সহযোগী সম্পাদক: মো: আলমগীর হোসেন

ঠিকানা:
সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
টেলিফোন: +৮৮০২২২২২২৩৫৫০
ইমেইল : shokolshongbad@gmail.com