বাংলাদেশের পোস্টাল ভোটিং মডেল নিতে চায় নেপাল ও শ্রীলঙ্কা

আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৬ ০১:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-১০-২০২৬ ০১:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন

প্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশ দুটি।
 

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার কারিগরি ও পরিচালনাগত দিকগুলো জানতে সম্প্রতি নেপালের নির্বাচন কমিশনের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কা সফরেও দেশটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে এই ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ দেখা যায় বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা।
 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের ভেতরে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এ জন্য ব্যবহার করা হয় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম’।
 

ইসির ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন’ (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি এই ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে। নেপালের প্রতিনিধিদল নিজ উদ্যোগে এ বিষয়ে জানতে এসেছে এবং তারা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
 

সালীম আহমাদ খান আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও উপনির্বাচন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। তাঁর মতে, পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, যা ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
 

বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা জানতে আসা নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. রাজিব সুব্বা বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই মডেল সফল উদ্যোগ। বাংলাদেশ থেকে কারিগরি সহায়তা পেলে নেপাল সম্মানিত বোধ করবে।
 

নেপালের আগামী প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের মতো নেপালেরও বিপুলসংখ্যক নাগরিক বিদেশে কাজ করেন এবং তাঁদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিদেশে থাকা নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বোঝার চেষ্টা করছে নেপাল।
 

ড. রাজিব সুব্বা বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় নেপাল সম্ভাব্য ভুলগুলো এড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। তবে বাংলাদেশের মডেলটি সরাসরি অনুসরণ করা হবে কি না, তা গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর নির্ধারণ করা হবে।
 

নেপালের এই নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী দেড় বছরের মধ্যে দেশটির যেকোনো একটি প্রাদেশিক নির্বাচনে পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসে প্রযুক্তিনির্ভর ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন তাঁরা। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এটি তাঁদের তৃতীয় দফার আলোচনা।
 

তবে এই ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে কয়েকটি চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. রাজিব সুব্বা। উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত নেপালি শ্রমিকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে ভোটার শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি ডাকযোগে কাগজপত্র পৌঁছাতে বিলম্ব, কাঠমান্ডুতে ব্যালট পৌঁছানোর সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখছে নেপাল।
 

বাংলাদেশের ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে ড. রাজিব সুব্বা বলেন, এর সফটওয়্যার, কোড ও নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। ফলে প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থায় রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
 

ইসি সূত্র জানায়, নেপালের প্রতিনিধিদল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন।
 

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর নেতৃত্বে ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোস্টাল ভোটিংয়ের পরিচালনাগত ও কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
 

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. জানকী কুমারী তুলাধর, সচিব কৃষ্ণ প্রসাদ কাপরী, সিনিয়র কম্পিউটার অফিসার অনুপ নৌপানে, ডেপুটি অ্যাটর্নি কমলা কাফলে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধি প্রভাত কুমার।
 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন অনুমোদিত ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন। সে হিসাবে ভোটদানের হার ছিল ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ।
 

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২টি ভোট, যা অনুমোদিত ভোটারের ৭৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি, যা মোট অনুমোদিত ভোটারের ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ।
 

ইসির হিসাব অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালটের মধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২০৫টি গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ভোটারদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৮টি ভোট।
 

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

সম্পাদকীয় : দৈনিক সকল সংবাদ


দৈনিক সকল সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও জনজীবনের নানা বিষয় আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সচেতন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাম্মদ আরিজ উলফি 
নির্বাহী সম্পাদক: আবুল হুসাইন 
সহযোগী সম্পাদক: মো: মনিরুজ্জামান
সহযোগী সম্পাদক: সাইফুর রহমান প্রিন্স 
সহযোগী সম্পাদক: মো: আলমগীর হোসেন

ঠিকানা:
সুইট # ২, (১১ তলা) পল্টন চায়না টাউন (পশ্চিম টাওয়ার), ৬৭/১, নয়াপল্টন ভি আই পি রোড, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশে।
টেলিফোন: +৮৮০২২২২২২৩৫৫০
ইমেইল : shokolshongbad@gmail.com